হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব আর কৈশোরের দুরন্তপনা…..

Wed, Dec 6, 2017 8:00 PM

হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব আর কৈশোরের দুরন্তপনা…..
  • সুলতান সুমন

যতই দিন যাচ্ছে ততই হারাচ্ছে শৈশব আর কৈশোর। আগের মতো আর দল বেঁধে খেলা হয়না গোল্লারছুট আর দাড়িয়াবাঁধা বা ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ।

যুগের তালে বদলে যাচ্ছে শৈশব আর কৈশোরের দুরন্তপনা চলা। আর দল বেঁধে খেলা। সবই হারাচ্ছে বর্তমান প্রযুক্তি নির্বর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে। তবুও মনে পড়ে শৈশব আর কৈশোরের কথা। ইচ্ছে করে আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই। শুধু কি তাই আরও মন চায় ফুলের মালা গলায় দিয়ে পাড়া মাতিয়ে ছুটে বেড়ানো। আর মনে পড়ে সকল শৈশব আর কৈশোর বয়সের বন্ধুদের নিয়ে সকাল বিকেল হাড়িভাঙ্গা, লুকোচুরি, এক্কাদোক্কা, ফুলটোকা, পলানটুক, টুপাটুপি, বর কনের খেলার কথা। মনে পড়ে বৃষ্টির পানিতে ভেজে মুক্ত মনে বন্ধুদের সাথে মাঠে ফুটবল খেলা। খেলে সারা শরীরে কাঁদা মাটি মেখে ঘরে ফেরা। কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিন। শৈশবের দুরন্তপনার সহযোগী সেই বন্ধুরাই বা কোথায়।

যে খেলাগুলো শিশু-কিশোরদের দুনিয়াটাকে তাদের মতো করে রাখতো, সেগুলোকে এখন দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এক্কা দোক্কার বদলে ফেসবুক, গোল্লাছুটের বদলে মেসির খবর, দাঁড়িয়াবাধার বদলে লর্ডস টেস্ট এখন আমাদের শিশুদের, কিশোরদের আক্রান্ত করে রেখেছে। বাংলার চিরচেনা খেলাগুলোর জায়গা নিয়েছে টেলিভিশনের খেলা আর কার্টুন বা মন কাড়া কোনো সিরিয়াল এবং ফেসবুক, ভিডিও গেম। আমাদের নিজেদের খেলাধুলাগুলো কতোটা হারাচ্ছে, সে নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর না নিলেও বোঝা যায়। চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায়, সেই খেলাগুলো আর নেই। কান পাতলেও সেই ‘হা-ডু-ডু’ বা ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ’ আর শোনা যায় না।

বন্ধুদের নিয়ে খোলা মনে গ্রামে ছুটে বেড়ানো। সন্ধ্যা হলেই মাঠে এক কোণে বসে সাজানো গল্প শুণে মন ভরানো। আর মুক্তমনে খেলা করার মত শিশুদেরকে আজ আর দেখা যায়না। তাই মানসিক ও শারীরিক বিকাশ সাধন ছাড়া যে, শিশুর প্রকৃত বিকাশ সাধন হয় না সেটা কেউ বুঝতে চায়না। প্রকৃতির সান্নিধ্য থেকে এরা বঞ্চিত। বাসায় বসে কম্পিউটার গেম, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ডিশ এন্টেনার গৎবাধা একইরকম অনুষ্ঠান দেখা ছাড়া আর কি আছে? এগুলোর চেয়ে প্রকৃতির কোলে মেঠোপথ, নদী, মাঠের পরে দূরের দেশ, আম আঁটির ভেঁপু, পাশ দিয়ে হয়তো খোকা খুকুরা খেলছে- এপেনটু বায়োস্কোপ, নাইন টেন টেসকোপ…… সুলতানা বিবি আনা সাহেব বিবির বৈঠক খানা….।

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। বিশেষজ্ঞরা এমনই বলেন। প্রকৃতির সাথে মিশে শিশুর মেধা যেভাবে বিকশিত হয় আর কোনভাবে এমনটি হয়না। তাই বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা মধুময় শৈশব ডাকে। খুজে ফিরে কৈশোরের দুরন্তপনা। ছসে বেড়াতে ইচ্ছে করে গ্রামের আঁকা বাঁকা মেটো পথ। শুনতে ইচ্ছে করে রাখালিয়ার বাশির শোর, গাজীর গীত, পল্লী গীতি বা রাতভর ফুঁতি পাঠ। দেখতে মন চায় লাঠিয়ালদের লাঠি খেলা, গোলা ভঁরা ধাঁন, গোঁয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ। কালের বির্বতনে হারিয়ে যাচ্চে এ সকল কিছু। যেন খুব দ্রুতই আমাদের পরের প্রজন্মগুলোর সময় চুরি হয়ে যাচ্ছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে শৈশব, চুরি যাচ্ছে কৈশোর।

তাই বলতে চাই বর্তমান প্রজন্মের শিশু আর কিশোরদেরকে চার দেয়ালে বন্দি না রেখে মিশতে দেন তার শৈশব আর কৈশোর বয়সের বন্ধুদের সাথে। শিশুদেরকে গ্রামের ছায়াঘন সবুজ পরিবেশে নিয়ে যান। ফলে সেখানকার খোলা দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে খেলার সুযোগ শিশুর মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। মাটিতে গড়াগড়ি, পুকুরে ঝাঁপ দেয়া, গাছে উঠে দোল খাওয়া, ঝোপঝাড় থেকে অজানা-অচেনা ফুল ও ফল তুলে আনা, এর চেয়ে আনন্দ আর কোথায় পাওয়া যাবে না। তাই তো পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের ভাষায়…. তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়, মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি, মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়, তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়……


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান