১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত না হলে বাঙ্গালীর পরিণতি রোহিঙ্গাদের চেয়ে শোচণীয় হতঃ শাহাবুদ্দিন

Sun, Dec 24, 2017 1:51 PM

১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত না হলে বাঙ্গালীর পরিণতি রোহিঙ্গাদের চেয়ে শোচণীয় হতঃ শাহাবুদ্দিন
  • এফ,এম,এইচ আলী, জার্মানিঃ

১৬ই ডিসেম্বর যদি বিজয় না আসতো তাহলে বাঙ্গালীর পরিণতি হতো রোহিঙ্গাদের মত। বলেছেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও জার্মান আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি  শাহাবুদ্দিন।

গত ১৭ই ডিসেম্বর জার্মানীর বন নগরীতে আওয়ামীলীগ জার্মান শাখার উদ্যেগে আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, এক সময়  রোহিঙ্গাদের মধ্যেও একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠি ছিল, কিন্ত ১৯৬৩ সালের পর বর্বর সামরিক জান্তা সামরিক ফরমান বলে জাতিগত বিদ্ধেষে তাদের সকল অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে রোহিঙ্গারা শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের প্রজন্ম একটি অশিক্ষিত মেধাহীন অদক্ষ ক্রিতদাস জাতিতে পরিণত হয়।

এটা সু-পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। তেমনিভাবে ১৯৭১এ ১৬ই ডিসেম্বরে বাঙ্গালী জাতি যদি বিজয় অর্জন করতে না পারতো, তাহলে পাকি সামরিক জান্তাও বার্মিজ সামরিক জান্তার মত পূর্ব পাকিস্তানকে কেন্দ্র শাসিত রাজ্যে পরিনত করে অন্ততঃ পক্ষে দুই দশকের জন্য বাঙ্গালীদের জন্য আধুনিক শিক্ষার সকল পথ বন্ধ করে দিত, শুধু মাত্র মাদ্রাসা ছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ করে দিত। আর এই উদ্দেশ্য নিয়েই তারা ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবি নিধন শুরু করেছিল।

যদি বিজয় না আসতো তাহলে তারা তৃনমুল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষিত লোকদের হত্যা করতো এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও হত্যা করতো। হয়তো এক পর্যায়ে তাদের অনুগত শিক্ষিত দালালদেরও হত্যা করতো। আর ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া সকল বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সাংস্কৃতি কর্মি এবং বাঙ্গালী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আর ফিরে আসতে পারতনা এবং তাদেরকে বাকি জীবন ভারতে আশ্রিত লাখ লাখ তিব্বতী শরনার্থিদের মত কাটিয়ে দিতে হতো।

দুই দশক পর হয়তো তারা সিমিত আকারে শিক্ষা প্রতিষ্টান চালু করতো এবং তাদের তৈরী পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে ইসলামের নামে বাঙ্গালীর মধ্যে একটি অনুগত বাধ্যগত পদলেহনকরী গোষ্টি সৃষ্টি করে সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে একটি ক্রিতদাস জাতিতে পরিনত করতো।তিনি আরো বলেন, বাঙ্গালীদের বিরোদ্ধে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলকারী পান্জাবী বেনিয়া আর উর্দুভাষী মোহাজেরদের এই দুরভিসন্ধি পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই শুরু হয়, তাই তারা প্রথমে আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে বোবা বানিয়ে রাখতে ছেয়েছিলো।কিন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সংগ্রাম করে,রক্ত দিয়ে, যুদ্ধ করে বাঙ্গালী প্রমান করে দিয়েছে তারা পাকিদের  চেয়ে অনেক বেশী স্বাধীনচেতা, স্মার্ট ও সাহসী জাতি।

জার্মান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা হান্নানের সভাপতিত্বে ও আওয়ামী লীগ জার্মানী নর্দ রাইন ভেষ্ট ফালেন অঙ্গরাজ্য শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ জার্মানী নর্দ রাইন ভেষ্ট ফালেন অঙ্গরাজ্য শাখার সাধারন সম্পাদক আলমগীর আলম।

বিরতিতে প্রীতিভোজ শেষে বাংলার বাউল সঙ্গীত গোষ্ঠির পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এফ,এম,এইচ আলী, দফতর সম্পাদক, আওয়ামীলীগ সংযুক্ত জার্মান শাখা।     


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান