মহাবিশ্বে-মানুষ-পৃথিবী ও পরকালের অবস্থান

Sun, Dec 24, 2017 2:41 PM

মহাবিশ্বে-মানুষ-পৃথিবী ও পরকালের অবস্থান
  • তারেক বিন হাম্জাঃ

বিশাল এই মহা বিশ্বের ছোট একটা ধুলোকণার মতোই আমাদের এই সৌর জগৎ। সূর্য্য ও তার গ্রহ উপগ্রহ নিয়ে যে পরিবার সে পরিবারকে বলি সৌর পরিবার বা সৌর জগৎ। মহা বিশ্বের বিস্তারের তুলনায় সৌরজগতের বিস্তার নিতান্তই নগন্য। আমাদের সৌর জগতের মোট বিস্তার সাতশ কোটি মাইল। রাতের আকাশে আমরা যে অসংখ্য তারকারাদি দেখতে পাই এরা এক একটি সূর্য্য। পৃথিবী থেকে লক্ষ কোটি মাইল দূরে এদের অবস্থান বলে ছোট দেখায়। সূর্য্যরে মতো এদেরও নিজস্ব আলো আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন,মহাবিশ্বের এক একটা গ্যালাক্সিতে তারা রয়েছে গড়ে দশ হাজার কোটি। আর শক্তিশালী দূরবীন দিয়ে এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা একশ কোটি গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন। মহা বিশ্বের এই চিত্র আমাদের কল্পনার জগতকে হার মানায়।

মহাবিশ্বে রয়েছে অগুনতি ছায়াপথ,নক্ষত্র,গ্রহ,উপগ্রহ। এক একটি ছায়া পথে রয়েছে লক্ষকোটি নক্ষত্র। প্রতিটি নক্ষত্র এক একটি সূর্য্য। মহা বিশ্বের ছায়া পথের সংখ্যা একশ কোটি কোটি । আবার প্রতিটি ছায়াপথে রয়েছে একশ কোটি কোটি নক্ষত্র। এক একটি নক্ষত্র বা সূর্য্যকে ঘিরে রয়েছে অনেক গ্রহ,উপগ্রহ। ঐসব সুর্য্যরে কাছে আমাদের সূর্য্য একেবারেই সাধারন মানের একটা নক্ষত্র। তাই স্বভাবতই বলা চলে বিপুল এই মহা বিশ্বের এক প্রান্তে নগন্য এক সৌর জগতের একটা গ্রহে অবস্থান আমাদের এই পৃথিবীর। সূর্য্যরে কাছে বন্ধী এই পৃথিবী মধ্যাকর্ষনের কৌশলে পড়ে বৃত্তাকারে সূর্য্যকে প্রদক্ষিন করে চলছে। সূর্য্যরে আলো আর তাপেই সে বেঁচে আছে।
আমাদের সৌর জগতের প্রবীণ কর্তা হলো সূর্য্য। সূর্য হলো প্রকান্ড আগুনের একটা গোলক। প্রচন্ড তাপে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে সূর্যের সর্বাঙ্গ। সূর্য্যরে কেন্দ্রের তাপমাত্রা তিন থেকে চার কোটি ডিগ্রি ফারেনহাইট। সৌর জগতের বাসিন্দা,গ্রহ-উপগ্রহরা কোন না কোন ভাবে সূর্য্যরে দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই পৃথিবী থেকে সূর্য্য নয় কোটি ত্রিশ লক্ষ মাইল দূরে অবস্থিত। সূর্য্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছতে সময় লাগে আট মিনিট। সূর্য্যরে তাপের দুইশ কোটি ভাগের মাত্র একভাগ পায় পৃথিবী। সূর্য্যরে আয়োতন আমাদের পৃথিবীর আয়োতনের তেরো লক্ষ গুন বড়। পৃথিবী ঘুরছে সূর্য্যকে কেন্দ্র করে। আর সূর্য্য আবর্তিত হচ্ছে নিজ অক্ষের চারদিকে। আমাদের সৌর পরিবারকে নিয়ে সূর্য্য মহা শূন্যের ভিতর দিয়ে সেকেন্ডে বারো মাইল বেগে ছুটে চলেছে।

বিপূল এই মহাবিশ্বে আমাদের পৃথিবীর স্থান একেবারেই নগন্য। পৃথিবীর পরিচয় হলো সে সৌরমন্ডলের তৃতীয়গ্রহ। অন্যান্য গ্রহের মতো পৃথিবীর নিজস্ব কোন আলো নেই। গ্রহ গুলো শুধু সূর্য্যরে আলোকে প্রতিফলিত করতে পারে। চাঁদে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে নভোচারীরা পৃথিবীকে একটা উজ্জল নীলাভ চাকতির মতো দেখছেন। চাঁদ পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তিত হয় বলে একে বলা হয় পৃথিবীর অনুচর বা উপগ্রহ। চাঁদই পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। চাঁদ থেকে পৃথিবী পনেরো গুন বড় আর আশি গুন উজ্জল।মহাবিশ্বের কাছে আমাদের পৃথিবী অতি তুচ্ছ,অতি নগন্য একটি গ্রহ মাত্র। অথচ এই মহাবিশ্বের মহাশূন্যের কোন এক কোণায় আমাদের অবস্থান। মহাবিশ্বের বিশালত্বের মাঝে এই সুন্দর পৃথিবী একটি নগণ্য পরমাণুর মতও নয়। অংকের বেলায় যেমন ০.০০০০০১ এরূপ ভগ্নাংশ পরিমান সংখ্যাকে বাদ দিলেও অংকের ক্ষেত্রে তেমন ভুল হয় না। তেমনি মহাবিশ্বের বিশালত্বের মাঝে এই পৃথিবীকে বাদ দিলেও তেমন ভূল হবে না।মহাবিশ্বের বিশাল সমুদ্রে আমাদের পৃথিবীকে চিনে নেওয়ায় মুশকিল। তবু এই আমাদের ধরিত্রী, আমাদের চিরচেনা আবাসস্থল।

পৃথিবী সম্পর্কে বিশেষভাবে যারা গবেষনা করেন নানা তথ্য দিয়ে আমাদের জ্ঞান ভান্ডার কে সমৃদ্ধ করেন,তাদেরকে আমরা বলি ভূ-তথ্যাবিদ। আর একধরনের বিজ্ঞানী রয়েছেন যারা গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষন করেন তাদের আমরা বলি জ্যোতির্বিদ। ভূ-তথ্যাবিদ আর জ্যোতির্বিদ মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ব জগৎ ও একই সাথে পৃথিবীর অনেকখানি রহস্যই উৎঘাটিত হয়েছে। আজ আমরা মহাবিশ্বের দিকে হাত বাড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করেছি। পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছি আকাশে। কড়া নাড়ছি মহাবিশ্বের দরজায়। এই মহাবিশ্বকে আমরা যদি একটা মহা সাগর ভাবি,তা হলে আমাদের পৃথিবী হলো এই মহাসাগরের তীরে বালুকা রাশির একটি বালির কনা মাত্র।সেই পৃথিবী আমাদের কাছে কিনারা বিহীন সাগরের মত অসীম মনে হয়।

আদৌ এর আগা গোড়া দেখা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। পারিনা জানতে সাগরের তল দেশের খবর,না পারি জানতে অরন্যের পশু পাখির মনের কথা। এই পৃথিবীর একটি সীমাবদ্ধ পরিসরে আমরা বাস করি। পৃথিবীর মানুষ বড়ই একা।এই বিশ্বজগৎ অসীম। এর কূল কিনারা পাওয়া মানুষের সাধ্যাতীত। কতো দূর পর্যন্ত যে এর বিস্তৃতি তা বলা কঠিন। মাকড়সার জালের মত মাকড়াসা যেমন ঝুলে থাকে,তেমনি আমরা এই শূন্যে ঝুলন্ত পৃথিবীটার মধ্যে ঝুলে আছি মধ্যাকার্ষণ শক্তির বলে।এর উপরে কিংবা নিচে যাওয়া আমাদের সম্ভব হয় না। যদি মধ্যাকার্ষণ শক্তি না থাকে তা হলে আমরা যে মহাবিশ্বের মহাশূন্যের কোথায় যে ছিটকে পড়ব তা বলা মুশকিল।পৃথিবী হলো এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধীকারী। এই বৈশিষ্ট্যে হলো পৃথিবীতে রয়েছে একমাত্র প্রানের স্পন্দন।

মানুষ,পশুপাখি,জীবজন্তু,কীটপ্রতঙ্গ আর বন বনানী মিলে মিশে সুন্দর এই পৃথিবীর ধুলোকনাতে মেতে উঠেছে সৃষ্টি সূখের উলাসে। মহাবিশ্বের কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের খবর আমরা জেনেছি। এরমধ্যে একমাত্র পৃথিবীই পেরেছে প্রানের বীজ উপ্ত হওয়ার মতো গৌরবের অধীকারী হতে। প্রানের উদ্ভব ও বিকাশের জন্য যে পরিবেশ দরকার তা রয়েছে পৃথিবীতে।পৃথিবী মানুষের আনন্দভবন , প্রিয় আবাসস্থল , কত সুন্দর মায়াময় এই পৃথিবী। মাথার উপর নীল আকাশ , বিশাল বিশাল সমূদ্র , ঘন সবুজ অরণ্য , ছায়া ঘেরা উপবন সব মিলিয়ে কত সুন্দর , কত নির্মল , কত আনন্দময় । ভোরে পাখির ডাকে মানুষ ঘুম থেকে উঠে। সূর্য্য অকৃত্রিম বন্ধুর মত মানুষকে আলো দেয়। মানুষ কর্ম ব্যবস্থার মধ্যে উপভোগ করে দিনটাকে। রাতের বেলায় কর্মকান্ত অবসন্ন দেহটাকে এলিয়ে দেয় বিছানায়। রাতের নিঝুম পরিবেশ শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় মানুষের চোখে। ঘুম থেকে জেগে উঠে আবার শুরু হয়ে যায় জীবনের পথ চলা। আলোক উচ্চল পৃথিবীতে আবার মানুষ ছড়িয়ে পড়ে কাজে। কিভাবে সৃষ্টি এই পৃথিবী। মাথার উপর এই নীল আকাশ দাঁড়িয়ে আছে কিসের উপর। একই সময়ে পৃথিবীর কোথাও দিন আবার কোথাও রাত্রের উপস্থিতি কেন ? মানুষই একমাত্র বুদ্ধিমান জীব,যে এই বালুর কনায় দাড়িয়ে জানতে চেয়েছে মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুকে। মহাবিশ্ব কত বড় করে তৈরী হয়েছিল,মহাবিশ্বে আমাদের ঠাঁই কোথায় ,সে সম্মন্ধে মানুষ জানার চেষ্টা করছে যুগে যুগে।

মহাবিশ্বের বিশালত্তের কাছে মানুষ প্রায় অস্তিত্বহীন। মহাবিশ্বের বয়সের তুলনায় কত সীমিত মানুসের আয়ূ ! অথচ এই সীমিত আয়ূ আর অস্তিত্বহীন অস্তিত্ব নিয়েই মানুষ অসীম মহাবিশ্ব নিয়ে ভাবতে পারে। ৬০বছরের গড় আয়ূ নিয়ে মানুষ ১৪ হাজার কোটি বছরের মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারছে। গড়পরতা সাড়ে ৫ফুট দৈর্ঘ্যরে এক দেহ নিয়ে মানুষ ৪৫.৭ কোটি (৪৫ এর পর ৬০টি শূন্য)কিলোমিটার আয়তনের মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারছে কে এর সৃষ্টিকর্তা ! কিভাবে মানুষ এই অসীম বিশ্বজগতের ধারণা মাথায় নিতে পারছে ! মানুষ কিভাবে পৃথিবীতে এল! কিভাবে মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছিল । পৃথিবীতে কিভাবে প্রানের উদ্ভব হয়েছে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের অনেক অনুমান ও তত্ব রয়েছে। কিন্তু পবিত্র কোরআনে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তাতে দেখা যায়।মহান আলাহ তা’আলাই এই পৃথিবীকে নিপুন হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন ভূমন্ডল-নভোমন্ডল সহ মহাবিশ্ব এবং অনবরত সৃষ্টি করেছেন যা তিনি আমারদেরকে জানিয়েছেন তার সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআনে।

আলাহ বলেন : ”আলাহ সফল সৃষ্টি আরম্ভ করেছেন,তারপর পূনঃ পূনঃ সৃষ্টি করেছেন এবং সর্বশেষে সবাইকে তার কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।” (১০:৫০-৫৩)

”আমি আকাশ মন্ডল সৃষ্টি করেছি নিজ শক্তি বলে এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারনকারী” (৫১:৪৭)

”আমি যে জিনিসের ইচ্ছা করি সে জন্য শুধু এতটুকু বলতে হয়”হয়ে যাও” তাহলে তাই হয়ে যায়।”(সূরা:নাহল আয়াত:৪০)

”আমি আকাশ মন্ডল সৃষ্টি করেছি নিজ শক্তি বলে এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারনকারী” (৫১:৪৭)

”তিনি স্তরে স্তরে সাজিয়ে সাত আকাশ সৃষ্টি করছেন।” (সূরা;মূলক আয়াত:৩)

”তিনি ৬ দিনে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,তারপর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন।”(সূরা;হাদিদ আয়াত:৪)

”ওরা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না যে,আলাহই আকাশ ও পৃথিবী ও উভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু যথাযথভাবে ও এক নির্দিষ্ট কালের জন্য সৃষ্টি করেছেন ?”(সূরা;রুম আয়াত:৮)

” মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টি করা অনেক বড় কাজ ; যদিও অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।”(সূরা: আল গাফির আয়াত:৪০;৫৭)

আল – কোরআন মানুষকে এ তথ্যও দিয়েছেন যে, মহা বিশ্বের পৃথিবী নামক এক ক্ষুদ্র গ্রহ থেকে মানবীয় গুন সম্পূর্ন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স:) রজব মাসের ২৭ তারিখ সৃষ্টির নিগূঢ় রহস্য দেখার জন্য আলাহ তা’আলার অপার মহিমায় তার আমন্ত্রনে উর্ধ্বোলোকে যাত্রা করেন। সেদিন পৃথিবীর ধুলিময় জগতের এ বাসিন্দাকে নিয়ে যাওয়া হয় বুরাক ও রফরফ এর মাধ্যমে। পৃথিবী থেকে আলাহর ”আরশ পর্যন্ত” যাত্রাকে বলা হয় মিরাজ। এই পৃথিবীর একজন বাসিন্দা হিসাবে এর জন্য আমরা গৌরব অনুভব করতে পারি। পবিত্র আল কোরআনের সূরা বনীইর্সরাঈল এর আয়াতঃ ০১ ও সূরা নাজম এর আয়াতঃ ১৮ আলাহ এই তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন।
এই বিশ্ব জগৎ অসীম। এর কূল কিনারা পাওয়া মানুষের সাধ্যাতীত। আমাদের বাসস্থান ও জীবনের গন্ডি খুব সীমাবদ্ধ। তাই সসীম কখনো অসীমকে ধরতে পারে না। সসীম যদি অসীমকে ধরতে পারে তবে অসীম বলতে কিছু থাকতে পারে না। সে জন্য মানুষ সৃষ্টির আদি অবস্থা, এর সূচনা কাল, তার বাস্তব নমুনা ইত্যাদি কোন কিছুর যথাযথ ধারণা দিতে সক্ষম নয়।


বিশ্বলোকের বিশালতার তুলনায় মানুষ অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকায়। বিশ্বলোকের রয়সের তুলনায় মানুষের বয়স খুবই সংকীর্ণ, সীমাবদ্ধ এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ক্ষুদ্রাকায় ও সংকীর্ণ – সীমাবদ্ধ বয়সের মানুষই তার প্রাণ ও আত্তার এবং অন্তর্নিহিত সত্তার দিক দিয়ে এক বিরাট বিশাল অসীম ও মহান সত্তা। আর সত্যি কথা মানুষ বলতে মানুষের আত্তার ও তার অন্তর্নিহিত সত্তাই বুঝায়। কেবল মাত্র দেহটাই কখনও মানুষ নয়।
এ কথাও অনস্বীকার্য যে, পৃথিবীর বুকে সংকীর্ণ-সীমাবদ্ধ বয়সকাল বা আয়ূষ্কালের বিচারে লক্ষ বিলিয়ন জীব-তাত্ত্বিককালের মহাসমুদ্রে একটি বিন্দুবৎ (Ñযদি তাদের এ কথা সত্য হয়); কিন্তু ঈমানদার লোকদের দৃঢ় প্রত্যয় হল, মৃত্যূই মানুষের শেষ কথা নয়। মৃত্যূ হল মানুষের মহাযাত্রার একটা স্টেশন মাত্র। তার যে যাত্রা অতীতের অনাদিকাল থেকে শুরু হয়েছে, মৃত্যূর মুহূর্ত থেকে তা শুরু হবে তার সেই মহা যাত্রা অনন্তকালের অসীমতার পানে। সে এক চিরন্তন শাশ্বত জগত। সেখানে তাকে স্বাগত সম্বর্ধনা জানান হবে এই বলে : শান্তি ও স্বস্তি বর্ষিত হোক তোমাদের উপর, সূখী হও, উৎফুল হও, আনন্দিত হও তোমরা। শান্তি ও স্বস্তির এ মহান কাননে তোমরা প্রবেশ কর চিরকালের জন্য।
মৃত্যুর পর হতে অনন্ত অসীম জীবনে মানুষ মহা বিশ্বের যে অংশে অবস্থান করবে তাকে পরলোক বা পরকাল বলে। ”মানুষের জড় দেহ থেকে রূহ বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে তৎপরবর্তী জীবনকে পরকাল বলা হয়। পরকাল তিন স্তরে বিভক্ত, যথা ঃ বারযাখ (কবর), হাশর ও জান্নাত-জাহান্নাম।”
আসলে দুনিয়া আমাদের প্রকৃত ও স্থায়ী বসবাসস্থল নয়, বরং আমাদের মূল ও স্থায়ী আবাস্থল হচ্ছে জান্নাত। দুনিয়া হচ্ছে জান্নাতের গমন পথ (Transit) মাত্র। মূল গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পর ভ্রমণকারী যেমন পথিমধ্যে সল্পকালীন আশ্রয়স্থল থেকে মূল গন্তব্যস্থলের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে ঠিক তেমন এ দুনিয়া থেকেই আমাদেরকে জান্নাতে যাওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। মূসা (আঃ) এর দাওয়াতে ঈমান গ্রহণকারী ফিরআউনের চাচাতো ভাই কিবতীর কথা উদ্ধতি করে আলাহ তায়ালা এরশাদ করেন :
”হে আমার কাওম ! দুনিয়ার এ জীবন তো তুচ্ছ (ও অস্থায়ী) উপভোগের। নিশ্চয়ই চিরকাল বসবাসের জায়গা তো পরকালই।” (সুরা : আল-মুমিন-৩৯)
মহান আলাহ মানুষকে জান্নাতের দিকে অগ্রণী হওয়ার ও আহবান করেছেন। আলাহ বলেন :
”তোমরা অগ্রণী হও (দৌড়াও) জান্নাত লাভের প্রয়াসে, যা আকাশ ও পৃথিবী সমান বিশাল, (সমান্তরাল পরজগতে) প্রস্তুত করা হয়েছে তাদের জন্য যারা আলাহ ও রাসূলগনে ঈমান আনে। এটা আলাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আলাহ মহাঅনুগ্রহশীল।” (সুরাঃ আল হাদীদ :২১)
”জাহান্নামে তারা স্থায়ী হবে মহাবিশ্ব যতদিন বিদ্যামান থাকবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাই করেন যা তিনি ইচ্ছা করেন।’ (সুরা : হুদ-১০৭ ‘

”পক্ষান্তরে (পরকালে)জান্নাতে থাকবে যারা ভাগ্যবান।সেথায় তারা স্থায়ী হবে ততদিন, যতদিন মহাবিশ্ব বিদ্যামান থাকবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন, ইহা এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।”( সুরা : হুদ-১০৮)
কুরআন মজিদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই পরকালের আলোচনায় সমৃদ্ধ। মানুষ শুধুমাত্র তার চতুষ্পার্শ্বে অবস্থিত এই দুনিয়ার জগতের কিছু বস্তু ও বিষয় তার জড় ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ ও অনুধাবন করে। আর অবশিষ্ট জগতসমূহের সকল কিছুই তার নিকট অদৃশ্য (গাঈব)। কুরআন-হাদীসে বর্ণিত সমস্ত অদৃশ্যের প্রতি স্বচ্ছ বিশ্বাস পোষন করা ঈমানের অংশ।
বর্তমান যুগ হচ্ছে বিজ্ঞানের চুলচেরা বিচার বিশেষনের যুগ। প্রত্যেকটা বিষয়ই আজকাল সূক্ষè বিচার-বিশেষণ ও নিশ্চিত সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে, এমনকি প্রয়োজনে কম্পিউটারের সাহায্যে। উন্মাদনা ও আবেগের শূন্যস্থান পূরণ করা হচ্ছে ঠান্ডা মাথায় হিসেব-নিকেষ করে ও যুক্তি দিয়ে।
আধুনিক যুগের মানুষ অদৃশ্য ঈমানকেও বাস্তবের পরিচ্ছদের উজ্জ্বল, ভাস্বররূপে দেখতে চায়। অন্ধ বিশ্বাস ও অনুকরণের পরিবর্তে বাস্তব প্রমাণাদি অšে¦ষণ করে। ঈমানেরও নিজস্ব যুক্তিসিদ্ধতা ও বুদ্ধিভিত্তিক তৃপ্তি থাকা একান্ত বিধেয়। এ সকল ব্যপারে সকল ধর্ম গ্রন্থের মধ্যে একমাত্র কুরআনই আধুনিক মন-মানসের চাহিদা মেটাবার পুরোপুরি সামর্থ্য রাখে।
এতদিন সমাজের জ্ঞানীদের একাংশ যে বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে পরকারের প্রতিফল প্রাপ্তির জগতকে অস্বীকার করে আসছিলেন এবং নো চিন্তা ডু ফুর্তির জীবন নির্বাহ করিতেছিলেন এবং খাও দাও, আর জীবনকে উপভোগ করো-(Eat, Drink and Be Merry) নীতিতে বিশ্বাসী, অথচ এখন বিজ্ঞানই অংক কষে আর দলিল দিয়ে বিপরীত জগত তথা পরকালের বাস্তবতা প্রমাণ করছে। আপনি কি আধুনিক বিজ্ঞানের আলোতে পরকাল জানতে ও বুঝতে চান ? তাহলে জনাব মুহাম্মদ আন্ওয়ার হোসাইন লিখিত বই ”বিজ্ঞানের মহাবিষ্ময়কর আবিষ্কার পরকাল” এবং জনাব আল মেহেদী লিখিত বই ” সৃষ্টি ও স্রষ্টার রহস্য বই দু’টি পড়–ন। তাহলে আপনিও বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিস্কৃত তত্ত্ব ও তথ্যের আগমনের পূর্বের অপরিপক্ক ও মেধাশূন্য আত্ব-অহমিকা পরিহার করে সহজ সরল হেদায়েতের পথ অবলম্বন করবেন এবং বিশ্বাসীদের কাতারে সামীল হবেন অন্যান্য বিশ্বাসীদের মতো আমারও একান্ত কামনা।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান