ধনী রাষ্ট্র জার্মানিতে দারিদ্র?

Mon, Dec 25, 2017 3:54 PM

ধনী রাষ্ট্র জার্মানিতে দারিদ্র?
  • জার্মানি ডেস্ক: দরিদ্র দেশের মতো জার্মানিতে বস্তি নেই৷ তবে একটু খেয়াল করলেই এখানে চোখে পড়বে দরিদ্র আর গৃহহীন মানুষের অস্তিত্ব৷ অবশ্য দরিদ্রতম মানুষদেরও এখানে মেলে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শৌচাগার ও বর্জ্য নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুবিধা৷

জার্মানি এমন একটি দেশ, কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে যে দেশের দরিদ্রতম বাসিন্দারাও পান নানা সুযোগ-সুবিধা৷ রাষ্ট্র থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে অন্যান্য অনেক অবস্থাপন্ন দেশের তুলনায় এখানে সামাজিক কল্যাণের নেটওয়ার্ক অনেক বেশি শক্তিশালী৷ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি নিম্ন বেকারত্বের হার যা এখন শতকরা ছ'ভাগের কম, সেই সাথে জ্বালানি ও খাবারের দাম ইউরোপের অন্য অনেক দেশের তুলনায় কম জার্মানিতে৷ কিন্তু এর পরও দারিদ্র মানুষ চোখে পড়বে জার্মানির পথেঘাটে৷

ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য সাপোর্ট অফ হোমলেস-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জার্মানিতে সাড়ে আট লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন৷ এঁদের মধ্যে প্রায় আট লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে বা পরিচিতদের সাথে রাত কাটালেও বাকিরা থাকেন রাস্তায়, অর্থাৎ মোট গৃহহীনের ৬ ভাগ খোলা আকাশের নীচে রাত কাটায়৷ অন্যদিকে প্রায় সাড়ে চার লাখ শরণার্থির থাকার আইনি অধিকার রয়েছে, যদিও তাঁদের বেশির ভাগই থাকেন গণআবাসনে৷ তবে এ সব ক্ষেত্রে অনেকেই ভাড়া নেয়া সত্ত্বেও আবাসন থেকে বিতাড়িত হন৷

আবাসন সংকটের একটা বড় কারণ সোশ্যাল হাউজিং প্রকল্প থেকে ক্রমাগত পিছিয়ে আসা৷ ৩০ বছর আগে, কেবল দক্ষিণ জার্মানিতেই চার মিলিয়ন ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবস্থা ছিল৷ কিন্তু এখন পুরো জার্মানিতেই এ সংখ্যা এক দশমিক তিন মিলিয়ন৷ সাধ্যের মধ্যে থাকার জায়গা মেলা এখন কষ্টকর৷ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আবাসন খরচ৷ বিশেষ করে ছোট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া বেড়েছে অনেক৷ প্রায় ১৭ মিলিয়ন একজনের উপযোগী ঘরের বিপরীতে এখানে ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন এক ও দু'কামরার অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে৷

যেসব শরণার্থীদের চাকরি নেই তাঁরা সোশ্যাল বেনিফিট পান না, যদি না অন্তত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা জার্মানিতে থাকেন বা অন্তত এক বছর এমন চাকরি করেন, যাতে সোশ্যাল বেনিফিটের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয়া হয়৷ কাজেই এ দু'টোর কোনোটিই যাঁদের নেই, তাঁরা বাধ্য হয় রাস্তায় থাকতে যা আবার জার্মানিতে অবৈধ৷

গৃহহীন মানুষরা প্রায়ই বড় শহরগুলোতে অবস্থান নেয়, কারণ বড় শহরে চাকরির সুযোগ বেশি৷ সেইসাথে বড় শহরগুলোতে পর্যটকও আসে প্রচুর যারা ভিক্ষা দিতে তুলনামূলকভাবে উদারহস্ত৷ জার্মানির জরুরি দাতব্য সেবা সংস্থা বানহফ্সমিশন-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল বার্লিনের বিভিন্ন স্টেশনের আশেপাশে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার৷ জার্মানিতে শরণার্থীদের মধ্যে অন্তত ৬০ ভাগই এসেছেন রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ড থেকে৷

গৃহহীনদের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় এই শীতকাল৷ ১৯৯০ সাল থেকে প্রায় ৩০০ মানুষ মারা গেছে ঠান্ডার কারণে, এই ধনী দেশ জার্মানিতেই৷


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান