মাছি: ভয়ঙ্কর এক জীবানুবাহী প্রাণীর নাম

Tue, Dec 26, 2017 7:44 PM

মাছি: ভয়ঙ্কর এক জীবানুবাহী প্রাণীর নাম
  • স্বাস্থ্য ডেস্কঃ 

    আগে যা ধারণা করা হতো, মাছি তারচেয়েও বেশি রোগ জীবাণু বহন করে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন।

    দু'ধরনের মাছির ওপর গবেষণা চালিয়ে তারা বলছেন, ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের শরীরে ছ'শোরও বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এর অনেকগুলো মানবদেহে সংক্রমণের জন্যেও দায়ী। যেমন পেটের পীড়া, রক্তে দূষণ এবং নিউমোনিয়া।

    বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, মাছি তার পা, পায়ের পাতা এবং পাখার সাহায্যে এসব ব্যাকটেরিয়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে। তারা বলছেন, সত্যি কথা বলতে, মাছি তার প্রত্যেকটি পদক্ষেপেই জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াকে এক জায়গা থেকে আরেকটি জায়গায় নিয়ে যায়।

    এই গবেষণার সাথে যুক্ত ছিলেন এমন একজন বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেইট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডোনাল্ড ব্রায়ান্ট বলেছেন, লোকজনের কিছু ধারণা আছে যে মাছি ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মতো প্যাথোজেন বহন করে। তবে এর মাত্রা আসলেই কতো ব্যাপক হতে পারে সেবিষয়ে তাদের কোন ধারণা নেই।

    যে দু'ধরনের মাছির শরীর থেকে সংগৃহীত মাইক্রোবের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে তার একটি হাউজ ফ্লাই আর অন্যটি ব্লো ফ্লাই।

    পৃথিবীর প্রায় সবখানেই আছে হাউজ ফ্লাই। গবেষণায় এই মাছির শরীরে ৩৫১ ধরনের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। আর ব্লো ফ্লাই, যে মাছিটি সাধারণত গরমের দেশে পাওয়া যায়, তাদের শরীরে পাওয়া গেছে আরো ৩১৬ ধরনের ব্যাকটেরিয়া।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাছি যে জনস্বাস্থ্যের জন্যে বড় রকমের হুমকি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সেটা উপেক্ষা করে আসছিলেন। কিন্তু এতো ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও এটি হয়ে উঠতে পারে যেকোনো মহামারীর উৎস।

    প্রফেসর ব্রায়ান্ট বলছেন, ভুলে গেলে চলবে না, যখন কোথাও মহামারীর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন সেখানে এই মাছি খুব দ্রুত পরিস্থিতির আরো মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে।"

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, অসুখ বিসুখের ব্যাপারে এখন এই মাছিকে পূর্ব সতর্কতা হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

  •  

    সিঙ্গাপুরে ন্যানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টিফেন শুস্টার বলেছেন, "মাছিকে বায়োনিক ড্রোন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। খুব ছোট্ট একটি জায়গায়, যেখানে মানুষের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে এই মাছিটিকে ছেড়ে দিয়ে, তারপর সেই মাছিকে আবার ধরে, পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যেতে পারে সেখানে কি কি রোগ জীবাণু বাসা বেঁধে আছে।

    এসব নিয়ে শুনুন বাংলাদেশের একজন কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর চৌধুরীর সাক্ষাৎকার। শুনতে চাইলে উপরের অডিও লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।

    জীবাণু বহনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি বদনাম আছে হাউজ ফ্লাই এর। এরা সবচেয়ে নোংরা। ময়লা আবর্জনার উপর বসে এবং সব ধরনের পচে যাওয়া খাদ্য, প্রাণীর মরদেহ, মল মূত্র ও বিষ্ঠা থেকে তারা নিজেদের খাবার সংগ্রহ করে। একারণে এরা মানুষ, প্রাণী ও গাছপালার জীবাণু পরিবহনের জন্যে দায়ী।

    মৃত প্রাণীর শরীরে সাধারণত যে মাছিটি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় ব্লো ফ্লাই। নগর এলাকায় এদের পাওয়া যায় বেশি। বিশেষ করে মাংস পক্রিয়াজাতকারী কারখানা বা দোকানপাটে এবং কসাইখানায় তাদের বিচরণ।

     

     


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান