জাবির সংগঠন জুডো নিয়ে আলাপ, নতুন বছরের পরিকল্পনাঃ

Mon, Jan 1, 2018 8:09 PM

জাবির সংগঠন জুডো নিয়ে আলাপ, নতুন বছরের পরিকল্পনাঃ
  • আশীক আল অনিক, জাবি প্রতিনিধিঃ

সংস্কৃতির রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক,রাজনৈতিক ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে জড়িত সংগঠন। জাবির এসকল সংগঠনের মধ্যে খুবই সক্রিয় ও অন্যতম একটি সংগঠন ‘জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক সুনাম ও অর্জন এনেছে।

গত ২৩শে ডিসেম্বর,২০১৭ জুডো এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়,যার সভাপতি মুশফিক উস সালেহিন এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শান্ত এর সাথে জুডো নিয়ে আলাপ।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন (জুডো) এর নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আপনার অনুভূতি কি?
ফয়সাল মাহমুদ শান্ত : আসলে একটি বিতর্ক সংগঠনে কোনো পদের পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকে একজন বিতার্কিক হিসেবে, এবং আমরা সবাই নিজেকে বিতার্কিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে থাকি, সেই জায়গা থেকে যেহেতু এখনো এ প্রচেষ্টা বিদ্যমান সেহেতু আগের থেকে ভিন্ন কোনো অনুভূতি নেই। তবে জুডো জাহাঙ্গীরনগরে অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং তার পরিধি পুরো বাংলাদেশ, এমন একটি সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজেকে অনেকবার প্রশ্ন করতে হয়েছে "অামি পারবোতো? "। এ অনুভূতি যে কেমন তা বলা বোধ হয় একটু মুশকিল।


আপনি জুডো'র ২০১৮ কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, তবে বছরের শুরুতে সংগঠন নিয়ে কি ভাবছেন? সারা বছরের পরিকল্পনা নিয়ে অাপনার কোনো ভাবনা আছে কি?
শান্ত : দেখুন জুডো'র পুরো বছরের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের ২১ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে, যা কার্যনির্বাহী সভাগুলোতে অালোচিত হয়। তবে অামার একান্ত ব্যক্তিগত ভাবনা যদি বলি তা হবে এমন যে, বিতার্কিকদের বিভিন্ন কর্মশালায় অনংশগ্রহনের মাধ্যমে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা, নতুন শিক্ষার্থীদের বিতর্ক শিখতে সহযোগীতা প্রদান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগরকে সম্মানের সাথে প্রতিনিধিত্ব করা, এবং জুডো বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে অাপসহীন অবস্থান গ্রহন করে থাকে, সে ধারা অব্যাহত থাকবে।


 

যতদূর জানি,আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো সংগঠনের সাথে সংযুক্ত, সেগুলো একসাথে মেইন্টেইন করতে কি ধরনের জটিলতায় পরে থাকেন?

শান্ত : কোন সমস্যা যে হয়না তা বলবোনা তবে যতটুক সম্ভব অামি চেষ্টা করি প্রত্যেক সংগঠনের স্বার্থ বিবেচনা করে কাজ করা, যখন দেখি যে অামার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না তখন সেখানের দায়িত্ব থেকে অবসর নেই, তাই প্রমথ বর্ষে যতগুলো সংগঠনে সময় দিতাম তার অনেকগুলো ভালোলাগার পরও এখন অার সময় দিতে পারিনা।


 আপনার সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারনে এ্যাকাডেমিক বিষয়ে কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়না?
 শান্ত : কিছু সমস্যা তৈরি হয় তবে তার ক্ষেত্রে আমি "প্রতিবন্ধক " শব্দ ব্যবহার করবোনা। কেননা আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কাজ মনে করি এ্যাকাডেমিক কাজ, সেক্ষেত্রে যদি সাংগঠনিক কার্যক্রমে পড়ালেখায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতো তাহলে আমি সংগঠন ছেড়ে দিতাম। তবে যখনই কোনো জটিলতা দেখেছি তখনই সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি, আর খুব সংকটময় মুহূর্তে কাছের মানুষগুলোর পরামর্শ নিয়েছি, তাদের ভালোবাসায় সহজ হয়েছে পথচলা।


বলছিলেন কাছের মানুষের কথা, এমন যদি কারো কথা বলতেন যাদের সবসময় পাশে পেয়েছেন?
শান্ত : এরকমভাবে সবার নাম উল্লেখ করা সম্ভব না, কেননা অামার পরিচিতদের মধ্যে সবার কাছ থেকেই কমবেশি সহযোগীতা পেয়েছি, একান্তই যদি বলতে হয় দু'জন মানুষের নাম বলবো একজন ইমরান অাহমেদ অারেকজন ফজলুল হক মারুফ দু'জনই বিভাগের বন্ধু, তাই তাদের পাশে থাকার সুযোগটা অনেক বেশি। যেমন, যেকোনো সমস্যায় মারুফ একটা কথা বলতো "অারেকটু সময় নেও সব ঠিক হবে, পরিস্তিতি তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগীতা করবে "। অার ইমরান হলের বন্ধু তাই সম্পর্কটাও ভাই-ভাই (কোরামের একটা বিষয় অাছে)। এছাড়াও হল, বিভাগ, সংগঠন প্রত্যেক জায়গার মানুষগুলোর ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিলোনা।


 বিতর্ক চর্চার ক্ষেত্রে বিভাগের শিক্ষকদের ভূমিকা ছিলো কিরূপ?
 শান্ত : এক কথায়, প্রত্যেক শিক্ষককে মনে হয়েছে বিতর্ক সংগঠনের মডারেটর। বিশেষ করে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক তারেক চৌধুরী স্যার, ড. শওকত স্যার, আব্দুস  সাত্তার জয় স্যার, মাহমুদা ম্যাম এদের অনুপ্রেরণা সবসময় ভরসা যুগিয়েছে।


আপনি বলেছিলেন আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করেন, তার ব্যাপ্তি কেমন?
শান্ত : এক বাক্যে উত্তর হবে এমন, দেশের মধ্যে যারা বিতর্ক চর্চার সাথে খুব ভালোভাবে সম্পর্কিত তাদের কাছে জাহাঙ্গীরনগরের জুডো পরিচিত, এ পরিচিতির মাধ্যম হিসেবে যদি বলি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অনংশগ্রহন, স্কুল /কলেজ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোতে বিচার কার্য পরিচালনা, এ ছাড়াও জুডো প্রতি বছর একটি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার অায়োজন করে যেখানে আন্ত-বিশ্ববিদ্যালয়, আন্ত-কলেজ ও আন্ত-স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় যার মাধ্যমে দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলগুলো অনংশগ্রহন করে।

 বললেন জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার কথা, এছাড়া সারা বছরে কি কি অনুষ্ঠান থাকে আপনাদের ?
শান্ত : আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে, আন্ত-বিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আন্ত-হল বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নবীন শিক্ষার্থীদের অনংশগ্রহনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

 বিতর্ক শেখার জন্য কর্মশালা ব্যতিত অার কি কি করে থাকেন?
 শান্ত : আমরা  প্রতি সপ্তাহে তিনদিন (সোম, মঙ্গল ও বুধ) নিয়মিত সিটিং করে থাকি, যা অনুষ্ঠিত হয় টি এস সি'র ১১ নং রুমে। সেখানে সোম ও মঙ্গলবার বাংলা বির্তক এবং বুধবারে ইংরেজী বিতর্ক অনুশীলন করে থাকি।
 
এখানে অনংশগ্রহন করার জন্যে কি কি করতে হয়?
 শান্তঃ আমরাশ মনে করি জাবির সকল শিক্ষার্থীরাই জুডো'র সদস্য তাই এখানে আসার জন্য কোনো জটিলতা নেই, ঐ তিনদিনের যেকোনো দিন বিকাল ৪ টা থেকে ৬ টার মধ্যে চলে অাসলেই হবে।

 জুডো নিয়ে অাপনি অার কিছু বলতে চান?
 শান্ত : জুডো'র সকল সদস্যরা বিশ্বাস করে তারা সাংগঠনিক বন্ধনের পাশাপাশি একটি পারিবারিক বন্ধনে অাবদ্ধ, তাই যেমন কোনো পরিবার চায় না তার কোনো সদস্য চলে যাক তেমনি জুডোতে বিদায় বলতে কিছু নেই দায়িত্ব হস্তান্তর হয় মাত্র, অাবার পরিবারে নতুন সদস্যদের অাগমনে সবার মধ্যে অানন্দের যে ছাপ ফুটে ওঠে তা জুডোতে কোনো নতুন সদস্যের অাগমনে অামরা লক্ষ করি। সবার জন্যে শুভ কামনা।

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান