পান্থকুঞ্জ পার্ক এখন ডাস্টবিন

Sun, Jan 7, 2018 3:57 PM

পান্থকুঞ্জ পার্ক এখন ডাস্টবিন

হারিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর আরো একটি পার্ক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীন পান্থকুঞ্জ পার্কটি ময়লা-আবর্জনায় এখন মৃত প্রায়। পার্কের সামনে স্তম্ভের পেছনে প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ করছে পথচারী ও ভাসমান লোকজন। সীমানা দেওয়াল না থাকায় গাছও কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে পার্কটির আসল চেহারা। বছর খানেক আগেও পার্কটি সবুজ শ্যামল প্রকৃতি আর সুন্দর পরিবেশ ছিল বলে জানান প্রাতঃভ্রমণে হাঁটতে আসা লোকজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কাওরান বাজার মোড় ও বাংলা মোটরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত পান্থকুঞ্জ পার্ক। এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন হলেও তাদের ওয়েবসাইটে ২৭টি পার্কের তথ্য দেওয়া থাকলেও এ পার্কের কোনো তথ্য নেই।

সরেজমিন দেখা গেছে, হোটেল সোনারগাঁও-এর বিপরীত পাশে পার্কের সামনের স্তম্ভের পেছনে প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ করছে ভাসমান লোকজন। অথচ পার্কের একপাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আধুনিক পাবলিক টয়লেট রয়েছে, সেখানে মলমূত্র ত্যাগ না করে পার্কের ভেতরে লোকজন এ কাজ করছে।

পার্কের দক্ষিণ দিকের সীমানার বাইরের অর্ধ শতাধিক সিরামিকসের দোকানের ভেঙে যাওয়া অব্যবহূত টাইলস ফেলা হচ্ছে পার্কের ভেতর। ফলে পুরো পার্কটি এখন ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। পার্কের পশ্চিম পাশের সীমানার ফুটপাত ঘিরে বসতি গড়ে তুলেছে ভাসমান লোকজন। ফলে পরীবাগগামী সড়কের ফুটপাতে লোকজনের চলাচলের কোনো জায়গা নেই। পার্কের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে কোনো সুস্থ মানুষের সেখানে যাওয়ার অবস্থা নেই।

পার্কটির বিকেএমই ভবনের পার্শ্ববর্তী স্থানে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিন। ডাস্টবিনের কারণেও এই এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ডাস্টবিনের পেছনে ওয়াসার দেয়াল ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ঘর। ডিএসসিসির ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া বোতল, প্লাস্টিক সামগ্রী ও অন্যান্য ভাঙারি সংগ্রহ করে এখানে রেখে ব্যবসা করছে কতিপয় লোকজন। গেটের ভেতরে শতাধিক ভাঙারির বস্তা রাখা হয়েছে। পার্কের জায়গায় ভাঙারি ব্যবসার সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয় দোকানদাররা।

বাংলা মোটর থেকে কাওরান বাজারগামী প্রধান সড়কের বাম পাশে লোহার গ্রিলের তৈরি পার্কের নিরাপত্তা বেষ্টনি দীর্ঘদিন ধরে নেই। এটি পুনঃস্থাপনের কোনো উদ্যোগও সিটি করপোরেশনের নেই।

সন্ধ্যা হলে পাল্টে যায় পার্কের দৃশ্যপট। গভীর রাত পর্যন্ত এখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে। রাত একটু বাড়লে ছিনতাইকারী ও ভাসমান যৌন কর্মীদের দখলে থাকে পার্কটি। পার্কের টয়লেটের পাশে টিনশেড ঘর তুলে বাস করছে কয়েকটি পরিবার।

পার্কে সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটতে আসেন নানা বয়সী পুরুষ-মহিলা। পার্কের এমন পরিবেশে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েন লোকজন। পার্কে হাঁটতে আসা মোঃ নজরুল ইসলাম (৫২) বলেন, দুই বছর আগে পার্কের এমন চেহারা ছিল না। সিটি করপোরেশনের গাফিলতির কারণে পার্কটির এ অবস্থা।

পার্কটির ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে আঞ্চলিক অফিস প্রধান অভিযান চালানোর কথা। এ রকম অভিযান মাঝে মধ্যে পরিচালনা করা হয়। পার্কটি ডিএসসিসির কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পার্ক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। কিন্তু ডিএসসিসির ওয়েবসাইটে ২৭টি পার্কের তথ্য দেওয়া আছে, এ পার্কের নাম নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি বলতে পারছি না। বিষয়টা জেনে বলতে হবে। পার্কের সীমানা দেয়াল দেওয়ার কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত সীমানা দেয়াল দেওয়ার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ সম্ভবত নেই।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান