পেঁয়াজের দাম কমিয়েছে ভারত, দেশেও কমার আশা

Sun, Jan 21, 2018 10:03 PM

পেঁয়াজের দাম কমিয়েছে ভারত, দেশেও কমার আশা

গত শুক্রবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বিনিয়োগ শাখার এক পরিপত্রে বলা হয়, পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৮৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭০০ ডলার করা হয়েছে। এই মূল্যসীমা ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর হবে।

এর আগে নিজেদের বাজার সামাল দিতে গত নভেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তনির সর্বনিম্ন দর ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করে ভারত। অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সেই সীমা খানিকটা কমিয়ে আনা হল।

বর্তমান বিনিময় হারে প্রতি ডলারে পাওয়া যায় ৮৩ টাকার মত। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খরচ প্রতি টনে সাড়ে ১২ হাজার টাকার মত কমছে।

হিলি বন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুনুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভারত সরকারের এই উদ্যোগ দুই দেশের ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেবে। আমরা এখন দেড়শ ডলার কমে এলসি খুলতে পারব, যার সুফল যাবে খুচরা ক্রেতাদের কাছেও।”

টিসিবির হিসাবে রোববার ঢাকার বিভিন্ন বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

গতবছর জুলাইয়ের শেষভাগে হঠাৎ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকার উপরে ওঠে। এর মধ্যে পরিস্থিতি সামলাতে ভারতের বিকল্প হিসাবে মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

এরপর অতিবৃষ্টিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হলে দেশটির সরকার রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়। ফলে আরেক দফা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১২০-৩০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর দাম কিছুটা কমলেও সরকারি হিসাবে এখনও তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮৮ শতাংশ বেশি।   

বেনাপোল স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আলম হাজী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভারতে রপ্তানি মূল্য বেশি থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কমে গিয়েছিল। দাম কমানোর ফলে আমদানি আবার বাড়বে। তাতে দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম আরও কমবে।”

বাংলাদেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের চাহিদা ২০ থেকে ২২ লাখ টন। কিন্তু উৎপাদন ঘাটতির কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশকে আমদানি করতে হয়েছিল।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান