আবদুল হামিদ পুণরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন

Thu, Feb 1, 2018 9:19 AM

আবদুল হামিদ পুণরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তার দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়া এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ।

বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আবদুল হামিদকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।

সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় কোনো প্রার্থীর নাম আসেনি।”

সভায় আবদুল হামিদের নাম প্রস্তাব করেন ওবায়দুল কাদের, তাতে সমর্থন জানান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ।

পাঁচ বছর আগে দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদ।

প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনে সাতবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

আগামী ২৩ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। 

আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে হয়েছে সংসদ সদস্যদের। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

এই বছরেই সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে আগ্রহ ছিল রাজনৈতিক মহলে। সে ক্ষেত্রে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হামিদের ওপরই আস্থা রাখলেন শেখ হাসিনা।

আবদুল হামিদকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাখ্যায় ওবায়দুল কাদের বলেন, “বর্তমান সময়ের প্রয়োজনে, সবকিছু বিবেচনা করেই; তার সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, দেশের ও জনগণের প্রতি তার কমিটমেন্ট, প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে এই পদে পুনরায় সমাসীন থাকা দেশের প্রয়োজন। তাই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে মনোনয়ন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

প্রায় সোয়া ঘণ্টার বৈঠকে বোর্ডের প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিদেশে থাকায় এবং ড. আলাউদ্দিন আহমেদ অসুস্থ থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।

দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি হবেন দেশের একুশতম রাষ্ট্রপতি। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসোবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি।

আবদুল হামিদের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে। বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়ার পরও নিজেকে হাওরের মানুষ বলে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি। আনুষ্ঠানিকতার জীবন থেকে মুক্তি নিতে মাঝে-মাঝেই তিনি ছুটে যান নিজের এলাকায়।

আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থাতেই তিনি যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। এক পর্যায়ে তাকে কারাগারেও যেতে হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ২০১৩ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। এরপর ১৯৮৬ সালের দ্বিতীয় সংসদ,  ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন।

সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসাবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ।

নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন তিনি।

স্পিকারের দায়িত্ব পালনের সময় সংসদ সদস্যদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন রসিক রাজনীতিক আবদুল হামিদ।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান