ফারজানা জহির পমি’র গল্প ‘পরবাসী মন’

Tue, Feb 6, 2018 10:12 PM

ফারজানা জহির পমি’র গল্প ‘পরবাসী মন’

কাজ শেষ করতে না পারায় সারা রাত অফিসেই থাকতে হলো। বউ দূরে থাকলেই এই সমস্যাটা হয় ফাহিমের। সিথির কথা খুব বেশি মনে পড়ে তখন। আজও তেমনই হলো। সিথিকে সে কখন এতো ভালবেসেছে নিজেও জানে না। কত দিন দেখি না তার দেবির মতো মুখটা। আর বেশি ভাবতে পারছে না। একেতো সারা রাত অফিসে কাজ করে মেজাজ খারাপ। তার উপর সিথির বিরহ হঠাৎ জেগে উঠেছে। কি করবে ফাহিম?

কিছু উপায় না পেয়ে প্রতারণাটা আবারো বউয়ের সঙ্গেই করলো। অপমানটা আবার বউকেই করলো। নতুন অফিসের নারী সহ-কর্মী আর পুরুষ এক কলিগসহ চলে গেল গুলশানের নাম করা বার কোরিয়ানা রেস্টুরেন্টে। সেখানে স্কুয়িড, হাবি জাবিসহ নেশার বতলেও বুদ হলো। ফাহিমের বউ রিমি প্রায় এই রাস্তা দিয়ে যাবার সময় স্বামীকে বলে--চলো কোরিয়ানায় খাব। আজ ড্রিংকস করার সময় ফাহিমের একবারও রিমির কথা মনে হয়নি। হবে কি করে? সে যে সিথিকে কাছে না পাবার দুঃখে আকুল। সেই দুঃখ ভুলতে অন্য নারী কলিগ সাথে কোরে বারে আসা যায়। কিন্তু বউকেতো আর এসব বলা যায় না। আচ্ছা রিমি এ কথা জানলে খুব কষ্ট পাবে কি? কাঁদবে? আর কাঁদলেই বা কি? এর এসব ফালতু ইমোশনের দুই পয়সার দাম ফাহিমের কাছে নেই। বরং কিছু সময়ের জন্য সিথিকে ভুলে থাকা যাচ্ছে।

সিথি ফাহিমের আগের অফিসের কলিগ। ভিন্ন ডিপার্টমেন্টে কাজ করতো। ওদের পরিচয় ফাহিমের বসের হাত ধরেই। বাইরের একটা পোগ্রামে দুজনকে পরিচয় করিয়ে কাছে আসার ব্যবস্থা করে দেয় ফাহিমেরর বস। সেখানে প্রথম দেখাতেই অজানা সিথিতে মুগ্ধ ফাহিম। সিথিও পেতে চায় ফাহিমের শরীরের উষ্ণতা। ওকে একেবারে তদবির করে নিজের ডিপার্টমেন্টে নিয়ে এলো ফাহিম। এক মুহূর্তের জন্য যে চোখের আড়াল করতে মন চায় না। ব্যস তার পরের গল্পটায় শুধু সিথি আর ফাহিম। সেখানে রিমির শরীরটাই যেন মিথ্যে। রাতে ফাহিমের পাশে মৃত দেহের মতো পড়ে থাকে রিমির শরীর।

ফাহিম তখনও সিথির ভাবনায় ব্যাকুল। কখনো আবার অপেক্ষা কখন রিমি ঘুমবে, কখন সিথির সঙ্গে একটু কথা হবে? দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই সিথির সঙ্গে শরীর বা মনে ফাহিম। এভাবে কাটে মাস, বছর। রিমি শুধুই বাড়ির বউ। আর ফাহিমের ছায়াসঙ্গি হয়ে সব খানে সিথি। ফাহিমের সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, চুমু, আদর, সব সিথির জন্য। বুকে জড়িয়ে পিশে ফেলতে মন চায় সিথিকে। সেই বুকে রিমির আর কোন অধিকার নেই। সিথিকে নিয়ে কোথাও গেলে পুরুষগুলো যখন ওর অশালীন পোশাক দেখে হা করে তাকিয়ে থাকে তখন খারাপ লাগে না ফাহিমের। বরং এমন একটা মেয়ে পাশে আছে বলে গর্বে মন ভরে যায়। কি দারুন মানায় এসব খোলামেলা পোশাকে সিথিকে! সিথির স্বামী ওদের এই সম্পর্কের কথা জেনে গেছে। মোবাইলে অন্তরঙ্গ ছবি আর কনভারসেশান দেখে ফেলেছে। বোকা মেয়ে। সে কেন এগুলা ফোনে রাখতে গেল? কই রিমিতো এত দিনেও কিছু বের করতে পারেনি। রিমি যে সন্দেহ করতো না, তা নয়। কিন্তু প্রমান পেয়েছে কোন? পেলেই কি? রিমিকে উচু গলায় চেচিয়ে বা মোবাইল আছাড় দিয়েই শান্ত করা যায়।

রিমি আর ফাহিমের বিয়েটাও প্রেমের। ওদের বিয়েতে বন্ধুরা খুব খুশি হয়েছিল। জুটিটা দারুন জনপ্রিয় হলো। ক্যারিয়ারও খুব খারাপ না। দিনগুলো ভালই কাটছিল। প্রথম দিকে খুব টাকাও ছিল না। জীবনে বিলাসীতা আসার পর ফাহিমের হঠাৎ এক ঘেয়ে লাগছিল। অফিসের নানান কলিগের মুখে রগরগে বিভিন্ন কাহিনী শুনেও নিজের জীবনটা পানসে লাগছিল তার। সেই সময় সিথি এলো তার জীবনে। হঠাৎ করে জীবনের অর্থ খুঁজে পেল সে। সিথিই যে তার জীবনের সব। মাঝে মাঝে ফাহিম চিন্তা করে কেন সিথি আরো বছর ছয়েক আগে তার জীবনে এলো না রিমির জায়গায়? সিথির পেছনে টাকা খরচ করতেও কার্পণ্য করে না ফাহিম। ফাহিম শুনেছে সিথির স্বামী আরিফ ওর গালে চড় মেরেছে। এই সব টেনশনের মাঝে আবার রিমির ভাইয়ের ফোন। বিরক্তি নিয়ে ধরলো। রিমির ভাই জানালো ওর অবস্থা ভাল না। প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। রিমির ব্লিডিং হচ্ছে তো তাকে জানানো কি আছে? সে কি ডাক্তার, নাকি ব্লাড ডোনার? যত্তসব। রিমির সব কিছুতে বেশি বাড়াবাড়ি। সিথির জামাই তাকে কিছু ছবি আর কনভারসেশন পাঠিয়েছে। তাতে এত রিয়েক্ট করার কি আছে? বুঝুক এখন।

আমিতো মাঝে অনেক ভাল আচরন করেছি; করছি। বুকে জায়গা দিয়েছি। আর কি চাই ওর? আচ্ছা এই যে আমি ওকে না জানিয়ে ড্রিংকস করছি এটা যদি ও জেনে যায়? ধুর। এসব বাদ।

ফাহিমের এখন একটাই চিন্তা; আরিফের থাপ্পড়ে সিথি কতটা ব্যথ্যা পেয়েছিল? সিথির ক্যারিয়ার নিয়ে কোন সমস্যা হবে নাতো?


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান