প্রমাণ হল কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: আইনমন্ত্রী

Thu, Feb 8, 2018 4:03 PM

প্রমাণ হল কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: আইনমন্ত্রী
দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছেন, এর মধ্যে দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং আইনের ঊর্ধ্বে যে কেউ নয়, তা প্রমাণ হল।

রায়ের পর সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। আমি শুধু বলতে পারি, এই রায়ে প্রমাণ হল যে বাংলাদেশে বিএনপি আমলে অপরাধীদের যে স্বর্গ ছিল তার অবসান হয়েছে।

“এখন এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অপরাধ করলে তার বিচার হয় এবং সুষ্ঠু বিচার হওয়ার পরে তার শাস্তি হয়। আমি যতদূর জানি দুদক কাগজপত্রে প্রমাণ করেছে এবং সেজন্য আজকে এই সাজা।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

পুরান বকশীবাজারে জনাকীর্ণ আদালতে খালেদার উপস্থিতিতে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি যে, বাংলাদেশে যে দুর্নীতির আখড়া ছিল সেখান থেকে আমরা পরিত্রাণ পাওয়ার প্রচেষ্টায় যে ছিলাম তার সাফল্য এটা।

“আমি নিশ্চয় বলতে পারি একজন রাজনীতিবিদ দুর্নীতি করেন, একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি করার পর সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, এটা আমাদের ভাবমূর্তি খুব একটা উজ্জ্বল করে না। আমরা অন্ততপক্ষে পৃথিবীর কাছে বলতে পারব, যারা দুর্নীতি করেন তাদের এই দেশে বিচার হয়।যারা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন তাদের বিচার হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে, এই বিচার প্রক্রিয়াটাই আমাদের সাফল্য।”

এক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “আইনে উনি (খালেদা জিয়া) যা যা বেনিফিট পাওয়ার কথা, উনাকে তার সব দেওয়ার পরে এই মামলা শেষ হয়েছে। আমার মনে হয় না এটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছে।

নির্বাচনে যোগ্য-অযোগ্য

খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজার রায় হওয়ায় তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি পারবেন না তা উচ্চ আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমাদের সংবিধানে বলা আছে নৈতিক স্খলনের জন্য দুই বছরের অধিক সময় যদি কারো সাজা হয় তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না।

“হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দুটি রায় আছে, যেখানে এ ব্যাপারে কিন্তু সুনিশ্চিত বলা হয়েছে আপিল যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই মামলাটা পূর্ণাঙ্গ স্থানে যায়নি সেজন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হননি সেজন্য ইলেকশন করতে পারবেন, আবার আরেকটা রায়ে আছে পারবেন না। এখন উনার ব্যাপারে আপিল বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কি সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা তাদের ব্যাপার।”

আনিসুল হক বলেন, “মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পরে তারা আপিল করতে পারে এবং আপিল করার সাথে সাথে তারা বেইল পিটিশনও দিতে পারে।”

সার্টিফাইড কপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, হাই কোর্ট থেকে আপিল বিভাগে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

“যে মুহূর্তে রায় দেওয়া হয় সেই মু্হূর্তে সময় গণনা শুরু হয়। কিন্তু যে মুহূর্তে সার্টিফাইড কপির জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দরখাস্ত করেন সেই মুহূর্ত থেকে সময় গণনা বন্ধ হয়ে যায়, সার্টিফাইড কপি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত। যে মুহূর্তে সার্টিফাইড কপি প্রস্তুত হবে সেই মুহূর্তে আবার সময় গণনা শুরু হবে। তার মানে হচ্ছে সার্টিফাইড কপি তিনি যতদিন না পাবেন ততদিন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এই ৬০ দিনের সময় গণনা করা হবে না।”

রায় ৬৩২ পৃষ্ঠার হওয়ায় বৃহস্পতিবার সার্টিফাইড কপি পাওয়ার সম্ভবনা নেই বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

এই মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের হয়েছে দশ বছর করে কারাদণ্ড।

সেই সঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার করে জরিমানা করেছেন বিচারক।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান