তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন

Fri, Feb 9, 2018 3:27 PM

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন

খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

রিজভী জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির নেতৃত্বে দল পরিচালিত হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞতি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়া কেমন আছেন আজ আমরা তা জানি না। আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছ জানতে চাই, তিন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কিভাবে রাখা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি, খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদির মতো রাখা হয়েছে। এতেই  প্রমাণ হয় সরকারের রুচি কতটা নিচে। আসলে কী ঘটছে আমরা কিছুই জানি না। সরকারের কাছে জানতে চাই।’

নির্বাচনি বৈতরণী পার হতেই সরকার খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এর মাধ্যমে আপনি কী অর্জন করলেন। হঠাৎ যদি কালবৈশাখী ঝড়ে সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায় তখন কী করবেন? অতীতে যে এমন হয়নি তা তো নয়।’

দেশটাকে কোন নরকের মধ্যে আপনারা ঠেলে দিচ্ছেন’- এমন প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘হুমকি-ধমকি দিয়ে কি থামাতে পেরেছেন? পারেননি। হাজার হাজার জনতা বাধার মুখেও তাদের নেত্রীর সঙ্গে আদালতে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে বলছি, গতকালের রায় তা আগেই লিখিত রায়। গতকাল রায়ের পর সরকার দলীয় মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্য আর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের দেওয়া রায় হুবহু মিলে গেছে।’
রায়কে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত নেতাকর্মী গ্রেফতারের সংখ্যা ৩৭শ’ ছাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজুজ্জামান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, জাসাসের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এ মামলার অপর আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে সেখানেই রাখা হবে। আর তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান