লিওয়াজা আক্তার এর তৃতীয় গ্রন্থ ‘কাজিয়া’ উপন্যাস

Mon, Feb 12, 2018 12:49 AM

লিওয়াজা আক্তার এর তৃতীয় গ্রন্থ ‘কাজিয়া’ উপন্যাস
সম্প্রতি অমর একুশে বইমেলায় এসেছে লিওয়াজা আক্তার এর তৃতীয় গ্রন্থ ‘কাজিয়া’। উপন্যাসটি ইতোমধ্যেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। জার্মান বাংলা সাহিত্য বিভাগ বসেছে তাঁর সাথে। সেখানকার আলাপচারিতার চুম্বকাংশ নিম্নে তুলে ধরা হল।
 

জার্মান বাংলা নিউজঃ লেখালেখি কবে থেকে শুরু, কীভাবে?  

লিওয়াজা আক্তারঃ কাগজে কলমে লেখালেখি শুরু করেছি কবে থেকে মনে নেই তবে মনে মনে লেখা শুরু করেছি সেই জন্মের পর থেকেই।

জার্মান বাংলা নিউজঃ আপনার লেখার উপজীব্য বিষয়বস্তু সাধারণত কী?

লিওয়াজা আক্তারঃ আমার লেখা সাধারণত কোন এক বিশেষ গণ্ডীর ভেতরে আবদ্ধ নয় । সে কাল থেকে কালান্তরে, যুগ থেকে যুগান্তরে মিশে গেছে।

জার্মান বাংলা নিউজঃ কার লেখা আপনাকে অনুপ্রাণিত করে? 

লিওয়াজা আক্তারঃ অনুপ্রাণিত লেখকের কথা সামনে আসতেই যার কথা প্রথমেই মনে আসে এবং তার কথা না বললেই নয়, সেই সংগ্রামী লেখক সবার চেনা তসলিমা নাসরিন। সমরেশ মজুমদার এর 'কালবেলা' একটি অসাধারণ লেখা। কতবার পড়েছি জানিনা যতবারই পড়েছি, মনে হয়েছে এই প্রথম পড়লাম। অনেক বেশী প্রিয় হুমায়ূন আজাদের 'নারী' বইটি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুঁইশাক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'প্রথম আলো'। আসলে লেখক এবং লেখার নাম বলে শেষ করতে পারবনা কারণ যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা পড়ি তখন তারই প্রেমে পড়ি আবার যখন কাজী নজরুল ইসলামের লেখা পড়ি তখন তারও প্রেমে পড়ি, প্রেমের আসলে কোন শেষ নেই, যেমন শেষ নেই ভালো লাগার।

জার্মান বাংলা নিউজঃ সমসাময়িক লেখকদের সম্পর্কে  বলুন।

লিওয়াজা আক্তারঃ শত কাজের ব্যস্ততার ভিড়ে এখন পড়ার সময় পাই খুবই কম, তারপরও চেষ্টা করি মাঝে মাঝে অন্যান্য লেখকদের বই খুলে দেখার। হ্যাঁ, যারা আমার সমকালীন তারা বেশ ভালোই লিখছে। ইমতিয়াজ আহমেদ, ম্যারিনা নাসরিন, আসিফ নজরুল উনাদের বই কিছু কিছু পড়েছি বেশ ভালোই লেগেছে বলা যায়। আসলে এটাই তো সত্যি সকলকালে সকল সময়ে সব লেখকদের মাঝে কিছু ভালো লেখক আমাদের মাঝে উঠে আসবেই।

জার্মান বাংলা নিউজঃ  আদর্শ রচনায় কী কী উপাদান থাকা জরুরি বলে আপনি মনে করেন।

লিওয়াজা আক্তারঃ আদর্শ রচনায় আদর্শ থাকাটা খুবই জরুরী বলে আমি মনে করি কারণ মানুষের মধ্যে দিন দিন আদর্শ লোপ পাচ্ছে।

জার্মান বাংলা নিউজঃ এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ কি কি?

লিওয়াজা আক্তারঃ ২০১৫ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় প্রথম লেখা বই গল্পগ্রন্থ 'লাল স্বপ্ন নীল স্বপ্ন'। এরপর প্রকাশ পায় কাব্যগ্রন্থ 'ছুঁয়ে যাওয়া হৃদয়ের আকুতি' ২০১৭ সালে। আর এবারের বইমেলায় (২০১৮) প্রকাশ পেল আমার লেখা 'কাজিয়া' উপন্যাসটি ।

 জার্মান বাংলা নিউজঃ ভ্রমণ কাহিনী, গল্প, কবিতা, উপন্যাস কোনটিতে বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন?  

 লিওয়াজা আক্তারঃ ভ্রমণ কাহিনী এখনও লেখা হয়নি, বলা যায় সময়ের অভাবেই লেখা হয়ে ওঠেনি। তবে সামনে প্রচণ্ডভাবে লেখার ইচ্ছে আছে কেননা ভাবুক এই মন সারাক্ষণ সৃষ্টির অনুসন্ধানে মত্ত হয়ে থাকে । তাইতো সেই অনুসন্ধিৎসু মন ঘুরে বেড়াতে চায় পৃথিবীর এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে কিন্তু সে তো আর সম্ভব নয়। তবু মাঝে মধ্যে ঘোরাঘুরির চেষ্টা করা হয় । আর তারই প্রয়াসে ঘোরা হয়েছে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর । সামনে আরও অনেক ঘোরাঘুরির ইচ্ছে আছে । গল্প,কবিতা,উপন্যাস সবক্ষেত্রেই সমান ভাললাগা কাজ করে। তবে উপন্যাসের পরিসর থাকে বেশ বড় তাই এখানে ইছে মত কিছু করা যায় । বক্তব্যগুলো উপস্থাপন করা যায় সাচ্ছন্দে ।

জার্মান বাংলা নিউজঃ তরুণ লেখককের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

লিওয়াজা আক্তারঃ তরুণ লেখকদের জন্যে একটাই পরামর্শ কোন মিথ্যের সাথে আপোষ নয়, সবকিছুর উপরে তারা যেন সত্যকে প্রাধান্য দেয় । একজন লেখকের সমাজ তথা মানুষের কাছে যত দায়বদ্ধতা থাকে অন্য কারো বেলায় এতটা থাকেনা ।

জার্মান বাংলা নিউজঃ  আপনার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে বলুন।

 লিওয়াজা আক্তারঃ  পরিবার বলতে আমি আমার আশপাশের মানুষগুলোকেই বুঝি কেননা তাঁদেরকে নিয়েই আমাদেরকে প্রতিনিয়ত চলতে হয়। আর মা, বোন তারা তো আছেই। যদিও দূরে সবসময় কাছে নয়। অনেক বেশী মনে পড়ে বাবা এবং হারানো ছোট বোন সোনিয়াকে, যারা আমার রক্তের সাথে মিশে আছে।

জার্মান বাংলা নিউজঃ  আপনার ভালো লাগা, মন্দ লাগা, উল্লেখযোগ্য স্মৃতি সম্পর্কে যদি বলতেন।

লিওয়াজা আক্তারঃ  যখন সত্যিকার ভাবে কাউকে ভালোবাসি তখন সে কষ্ট দিলে খুব কষ্ট লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয় এ কষ্টগুলো অসহ্য বেদনার। তাই ভালোবাসতেই এখন ভয় লাগে কিন্তু তবুও ভালোবাসি, মন কাউকে না কাউকে ভালোবাসতে চায় কেননা ভালোবাসার কষ্টগুলো যেমন বেশী তার সুখগুলোও অনেক মধুময়। যে সুখের অনুভূতি অন্য কোন কিছুতেই আর নেই। জীবনের সবকিছুকেই সৃতি মনে হয় । আর প্রিয়জনদের সাথে কাটানো সময়গুলো সবচেয়ে বেশী স্মৃতিময়।

জার্মান বাংলা নিউজঃ  জার্মান বাংলা নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

লিওয়াজা আক্তারঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান