নোয়াখালীতে ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

Tue, Feb 13, 2018 4:46 PM

নোয়াখালীতে ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

আসাদুজ্জামান চৌধুরী কাজল, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আলমের (সাময়িক বরখাস্ত) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় গতকাল রোববার দুপুরে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত (সদর) এর বিচারক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এ আদেশ দেন।
 

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি কাউসার নিয়াজি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্র (১৬) এর মা হাছিনা আক্তার ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট বিবাদী নুর আলমকে একমাত্র আসামী করে আদালতে মামলা করেন। মামলা তিনি বলেন, তাঁর ছেলে ১০ শ্রেণিতে পড়ুয়া নাবালক শিশু। নুর আলমের বিদ্যালয়ে পড়ার কারণে নানাভাবে তার সঙ্গে সখ্যতা তৈরি হয় তার ছেলের। এর পর নুর আলম নানা প্রলোভন দেখিয়ে এবং এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ছেলেকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন (বলৎকার) করে। নুর আলম জেলা শহরের সরকারি আবাসিক এলাকায় থাকালীন তার বাসায়ও ছেলেও নির্যাতন করা হয়। সর্বশেষ ঘটনার পর তার ছেলে শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হলে বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আসামীকে হাজির হওয়ার জন্য আদালত একাধিক তারিখ ধার্য করেন। সর্বশেষ রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি)  আসামী হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁকে গ্রেফতার পূর্বক আদালতে সোপর্দ করার জন্য সুধারাম থানাকে নির্দেশ দেন।
 

বিদ্যালয়ের ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক নুর আলম নৈতিক স্থলনজনিত অভিযোগে অভিযুক্ত। তাছাড়া তিনি একজন দুর্নীতিবাজ শিক্ষক হিসেবেও ইতোমধ্যে অখ্যায়িত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ওই ছাত্রের সঙ্গে নিজের ছেলের মতো সম্পর্ক তৈরি করেন। পরবর্তীতে নানাভাবে প্রণোভন, ভুল বুঝিয়ে এবং এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তার সঙ্গে অনৈতক সম্পর্ক (বলৎকার) তথা শারীরিক নির্যাতন করেন। ওই শিক্ষক একাধিকবার এ ঘটনা ঘটালেও বিষয়টি সর্বশেষ জানাজানি হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের দিকে। তখন ছাত্রটি কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই লিখিত অভিযোগে ভিত্তিতে ইউএনও তদন্তপূর্বক ঘটনার সত্যতা পেয়ে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানান। 

 
এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক পুনরায় তদন্তপূর্বক সত্যতা পেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন ইউএনওকে। দ্বিতীয় দফায় তদন্তপূর্বকও ঘটনার সত্যতা মিললে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে লিখিতভাবে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ প্রধান শিক্ষক নুর আলমকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রের মা বাদী হয়ে আদালতে প্রধান শিক্ষক নুর আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
 
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নুর আলমের সেলফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
 
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় এসে পৌঁছেনি। গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ার অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান