খুব শিগগিরই বাংলাদেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি সেবা ফোর জি চালু হতে যাচ্ছে

Wed, Feb 14, 2018 9:40 PM

খুব শিগগিরই বাংলাদেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি সেবা ফোর জি চালু হতে যাচ্ছে
এ অবস্থায় স্বভাবতই সবার মনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে ফোর জি নিয়ে। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, কী থাকবে ফোর জিতে।

মঙ্গলবার নিলামে অংশ নিয়ে দেশের দুই অপারেটর বাংলালিংক ও গ্রামীণফোন ফোর জি তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি তাদের হাতে থাকা তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায় রূপান্তর করে ফোর জি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো বলছে, এই সেবা শুরুর মানে হল ‘ইন্টারনেট এক্সপ্রেসওয়েতে’ উঠে যাওয়া। ধীর গতির ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে ইন্টারনেটে গ্রাহকরা ছুটবেন চওড়া রাস্তায়।

উচ্চ গতির কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারে সময় বাঁচবে, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাগুলো পাওয়া যাবে বাধাহীনভাবে। প্রচলিত অনেক সেবাই হয়ে যাবে ইন্টারনেটভিত্তিক।

তবে মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা না হলে ফোর জি চালুর কোনো সফলতাই আসবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।  

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ সেবা শুরু হলে ই-কমার্স, আউটসোর্সিং সব ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার সাথে সাথে তৃণমূল মানুষের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত হবে।”

ইন্টারনেট ডাউনলোড বা আপলোডে থ্রি জিতে যে সময় লাগত, ফোর জিতে সে সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশে থ্রি জি ইন্টারনেটের গড় গতি ৩ দশমিক ৭৫ এমবিপিএস জানিয়ে নুরুল কবির বলেন, “ফোর জিতে এই গতি ৭ এমপিবিএস হবে বার তার চেয়ে বেশি দেওয়ারও চেষ্টা করা হবে। তবে গ্রাহকরা সহসাই এ গতি পাবেন না, এ প্রযুক্তির পুরোপুরি সুবিধা পেতে একটু সময় অপেক্ষা করতে হবে।”

>> থ্রিজি সুবিধায় ইন্টারনেট ডাউনলোড বা আপলোডে যে সময় লাগত, ফোর জিতে সে সময় নেমে আসবে প্রায় অর্ধেকে।

>> প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার কারণে যে কোনো ব্র্যান্ডেই অপারেটররা ফোর জি সেবা দিতে পারবে। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা তরঙ্গের কার্যক্ষমতা দেড় থেকে দুই গুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে শুধু ইন্টারনেটই নয়, ভয়েসকলেও অগ্রগতি হবে।

>> ফোর জি সেবা ব্যবহারের বড় চ্যালেঞ্জ হবে এটি ব্যবহারের উপযোগী হ্যান্ডসেট। দেশে ৩০% মানুষের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে, যার মধ্যে ১০% থ্র্রি-জি ব্যবহারের উপযোগী। ফোর জি হ্যান্ডসেটের চাহিদা তৈরিতে সরকারের সহায়তার প্রয়োজন পড়বে।

>> ফোর জি গতি পেলে প্রান্তিক মানুষ নানা কাজ করতে পারবে, ফলে তাদের শহরমুখী হতে হবে না। অনলাইনভিত্তিক সেবা বেড়ে যাবে এবং ই-কর্মাসের প্রসার ঘটবে।

>> ফোর জি চালু হলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আউটসোর্সিংয়ের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে; বাড়বে কাজের ক্ষেত্র।

>> ফোর জি গতিতে দেশে এফ কমার্সভিত্তিক ২০ হাজার পেইজ  বা গ্রুপের প্রসার আরও বাড়বে।

গ্রাহকদের থ্রি জির অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ বলে সব সময় অভিযোগ উঠেছে। যে পরিমাণ গ্রাহক থ্রি জিতে হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি সংযোগ হওয়ায় গ্রাহকরা সন্তুষ্ট নয়। ঢাকার বাইরে এ পরিস্থিতি আরও খারাপ। এজন্য অপারেটররা পর্যাপ্ত তরঙ্গ ও প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা না থাকাকে কারণ হিসেবে বলে আসছিল।

নুরুল কবির বলেন, “ফোর জিতে এ সমস্য থাকবে না। অপারেটররা প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা পাওয়ায় যে কোনো ব্র্যান্ডেই অপারেটররা ফোর জি সেবা দিতে পারবে। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা তরঙ্গের কার্যক্ষমতা দেড় থেকে দুই গুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে শুধু ইন্টারনেটই নয়, ভয়েসকলেও অগ্রগতি হবে।”

তবে উন্নত সেবা দেওয়ার পথে তরঙ্গের উচ্চমূল্য বাধা হয়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সহনীয় মূল্য রাখা হলে অপারেটররা আরও তরঙ্গ নিতে পারবে।”

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির হিসাবে, থ্রি জি চালুর পর দেশে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগে ডেটার ব্যবহার ছিল ১০০ এমবির কম। বর্তমানে তা প্রায় ৭০০ এমবি। ফোর জি চালু হলে এর ব্যবহার কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশে ফোর জি প্রুক্তি ব্যবহারের উপযোগী হ্যান্ডসেট কম থাকাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন নুরুল কবির।

দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোনের গ্রাহকদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ফিচার ফোন ব্যবহার করে। আর বাকি ৩০ শতাংশের হাতে যে স্মার্টফোন রয়েছে তার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ থ্রি জি উপযোগী।

দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গ্রাহকের ১৪ শতাংশের হাতে ফোর জি উপযোগী হ্যান্ডসেট রয়েছে।

ফোর জি এনাবেল হ্যান্ডসেট চাহিদা তৈরিতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন রয়েছে; এদিকে সরকারের মনোযোগ দিতে হবে বলে বলে মত দিয়েছেন নুরুল কবির।

সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি এবং মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, “দেশে যদি সত্যিকার অর্থে ফোর জি সেবা বা গতি পাওয়া যায় তাহলে অনেক সম্ভবনার রাস্তা খুলে যাবে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এ সেবার মধ্যে এসে ইন্টারনেটভিত্তিক নানা সেবার আওতায় আসবে।”

দেশে শিক্ষিত বেকারদের সম্ভবনার কথা উল্লেখ করে আলমাস বলেন, “প্রান্তিক অঞ্চলে যারা রয়েছে ফোর জি গতি পেলে তারা নানা কাজ করতে পারবে, তাদের শহরমুখী হতে হবে না। অনলাইনভিত্তিক সেবা বেড়ে যাবে এবং ই-কর্মাসের প্রসার ঘটবে।”

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের সাধারণ সম্পাদক

তৌহিদ হোসেন বলেন, “আউটসোর্সিং যারা করে তারা থ্রিজির সেবা প্রকৃতপক্ষে পাননি। তবে ফোর জি গতি নিশ্চিত করতে পারলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আউটসোর্সিং এ যারা কাজ করে, তাদের আয় বাড়বে এটা নিশ্চিত। এছাড়া কাজের ক্ষেত্রও বাড়বে।”

বর্তমানে বাংলাদেশে এফ কমার্স ভিত্তিক ২০ হাজার পেইজ  বা গ্রুপ রয়েছে। ফোর জি গতিতে এদের প্রসার আরও বাড়বে তবে ফোর জি সেবার মূল্য সহনীয় না রাখলে এসব কোনো কিছুই সফল হবে না বলে মনে করেন তৌহিদ।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
উপরে যান